দেখুন আমরা বাঙালীরা কতটা অকৃতজ্ঞ। দয়া করে ৫মিনিট নষ্ট করে পোষ্টটি পড়ুন

সবার আগে আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা ,যার দান করা ৬০০ একর জমির উপর দা‌রি‌য়ে আ‌ছে আজকের- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ,‌সে ই ,নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

তার মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গত ১৬ই জানুয়ারি। অথচ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে এইসব প্রতিষ্ঠানে কোন মিলাদ, দোয়া,বা কবর জিয়ারত, আয়োজন করা হয়নি।

 

– আর যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে,(সুধু বি‌রো‌ধিতা ই নয়,বর লা‌টের ( লর্ড কার্জন) কা‌ছে নিয়‌মিত তদ‌বির করত,‌যেন বিশ্ব‌বিদ্যালয় প্র‌তি‌ষ্ঠিত না হয়), বঙ্গ ভ‌ঙ্গের বি‌রো‌ধিতা ক‌রে‌ছে,চাষা পে‌াষার জাত, ৭ কোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি…!!!-এ সব কথা ব‌লে‌ছে, তার জন্মদিন, মৃত্যুদিন আমরা কত ধুমধামের সাথে পালন করছি। ছিঃ বলতেও লজ্জা লাগে।

 

এক নজরে নবাব সলিমুল্লাহর জীবনী।

 

‘নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’- একটা জীবন, একটা ইতিহাস।

নবাব সুলিমুল্লাহ যার জন্ম ১৮৭১ সালের ৭ ই জুন। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রিয়। ফলে অভিজাত পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি অবস্থান করতেন। সাধারণ মানুষের দুঃখকে তিনি নিজের দুঃখ মনে করতেন। তিনি আকাতরে দান-খয়রাত করতেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ যিনি সর্বপ্রথম পানীয় জল, ইলেকট্রিসিটি এবং টেলিফোন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে আধুনিক ঢাকার জন্ম দেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ যিনি জীবনের প্রথম দিকে জনগণের কথা চিন্তা করে নবাবীর লোভ না করে মোমেনশাহীর ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ যিনি ১৯০৩ সালে বড় লাট লর্ড কার্জন ঢাকায় সফরে এলে তার নিকট পূর্ব বাংলার সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ যিনি ১৯১১ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার কার্জন হলে ল্যান্সলট হেয়ারের বিদায় এবং চার্লস বেইলির যোগদান উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নওয়াব আলী চৌধুরীকে নিয়ে পৃথক দুটি মানপত্র নিয়ে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন, বাবার নামে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমানে বুয়েট) প্রতিষ্ঠা করেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ যিনি ১৯০৬ সালে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দোশরদের ক্রমাগত আক্রমন থেকে নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য এবং ধর্ম রক্ষায় প্রায় ছয় মাসের প্রচেষ্টায় পাক-ভারত উপমহাদেশে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’ গঠন করেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ যিনি আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক শিক্ষা বিভাগে মুসলমানদের জন্য সহকারী পরিদর্শক ও বিশেষ সাব ইন্সপেক্টরের পদ সৃষ্টি করেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ যিনি বর্ণবাদী-ব্রাহ্

মণ্যবাদী চক্রান্তে বিট্রিশ সামাজ্যবাদে শত বছরের অধিক চাষাভূষা, কচোয়ান-দাঁরোয়ান ও গোলাম বানিয়ে রাখা মুসলিমদের কথা ভেবে প্রথম জেগে উঠেন তারপর মুসলিমদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ, যিনি ১৯০৫ সালে বঙ্গদেশকে দুই ভাগে ভাগ করে, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও আসাম নিয়ে ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ গঠন করেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ, যিনি সুদূর তুরস্কের ভূমিকম্পে মানুষের কষ্টের কথা শুনে সাহায্যের জন্য টাকা-পয়সা পাঠিয়েছিলেন।

 

— নবাব সলিমূল্লাহ, যিনি মানুষকে তার সকল সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে ঋণী হয়েছিলেন। সোনালী ব্যাংক সদরঘাট শাখায় এখনও তার বন্ধক রাখা সিন্ধুক “দরিয়ায়ে নূর” রক্ষিত আছে।

 

আচ্ছা আমরা ক’জন জানি এই মহান ব্যক্তির কথা? তার অসামান্য কীর্তির কথা? এই ঢাবি না থাকলে আজকে কারা ভাষা এনে দিতো আমাদের? এই ঢাবি না থাকলে কারা স্বাধীনতাকে এনে দিতো? এই বুয়েট না থাকলে কারা বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সুযোগ করে দিত?

 

আজ যত-শত আবর্জনারই আমাদের জ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাড়িয়েছে যেখানে এই মহান ব্যক্তিদের একটু জায়গা কোথায়!!

 

রহস্যজনক মৃত্যুঃ ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর পূর্ব পুরুষ ইংরেজদের দালালি করলেও নবাব সলিমুল্লাহ তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে ততকালীন হিন্দু সমাজ এবং লাটের সাথে তার বাদানুবাদ হয়। কথিত আছে যে, বড়লাট রাজি ছিলেন না ঢাকায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে। এই নিয়ে নবাবের সাথে বড় লাটের তীব্র বিতর্ক হয়।

নবাব সবসময় একটা ছড়ি নিয়ে ঘুরতেন। যখন বড়লাট রাজী হচ্ছেননা ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে তখন,কথা কাটা কা‌টির এক পর্যায় নবাব রেগে গিয়ে ছড়ি দিয়ে বড়লাটের টেবিলে বাড়ি মারেন এবং বড়লাটের দিকে এগিয়ে আসেন।

তখন বড়লাটের হুকুমে বড়লাটের হিন্দু দেহরক্ষী নবাবকে গুলি করেন। পরে প্রচার করা হয় যে তিনি হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়।আমরা ভুলে গেছি নবাব সলিমুল্লাহ মৃত্যু বার্ষিকী। অথচ যার দান করা ৬০০ একর জমির উপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাড়িয়ে আছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে স্বরণ করেনা। তার নামও নেয়না।

আর যিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন তার জন্মদিন, মৃত্যুদিন ধুমধামের সাথে পালন করা হয়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা নবাব সলিমুল্লাহ। উনার
আন্তার মাগফিরাত কামনা করছি, আল্লাহ্‌ উনাকে জান্নাত দান করুন (আমিন)।

 

বিস্তারিত জানতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *