ব্রেকিং নিউজঃ সকল সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কঠোর বিধিমালা ব্যবস্থা…দেখে নিন

কোনো সরকারি চাকরিজীবী সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো মিডিয়া কিংবা যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না, এমনই বিধান রেখে আসছে কঠিন বিধিমালা। এর পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মচারীকে পাঁচ বছর পরপর তাদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে।

সবার আগে আপডেট পেতে পেইজে লাইক দিন

এমনকি, কোনো কর্মচারী তার নিজের অধিক্ষেত্রে কাউকে কোনো টাকা ঋণ দিতে পারবেন না। নিতেও পারবেন না। আর যদি কোনো কর্মচারীর স্বামী কিংবা স্ত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হন তা সরকারের কাছে লিখিত জানাতে হবে।

কেউ যদি এই বিধিমালা না মানেন তা হলে সেটি অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। শুধু তাই নয়, এর জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নতুন এই আচরণ বিধিমালা-২০১৮ নামে করা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, এটি এখন খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

আগামীতে এটি প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে তখন তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

সূত্র জানায়, নতুন এই আইনের আওতায়, কোনো সরকারি কর্মচারি সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন বক্তব্য প্রকাশ করতে পারবেন না। সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারি বাণিজ্যিক কিংবা আবাসিক উদ্দেশ্যে কোনো ভবন, এপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন না। প্রত্যেক সরকারি কর্মচারি প্রতি পাঁচ বছর সম্পদ হ্রাস-বৃদ্ধি উল্লেখ করে সম্পত্তির হিসেবে সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।

কোন কর্মচারি ফটকা কারবারে বিনিয়োগ করতে পারবেন না। কোন সরকারি কর্মচারি নিজ অধিক্ষেত্রে কাউকে টাকা হাওলাত দিতে বা নিতে পারবেন না। কোন সরকারি কর্মচারির স্বামী কিংবা স্ত্রী কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে, কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তা সরকারকে লিখিত আকারে জানাতে হবে।

কোনো সরকারি কর্মচারী নিজে অথবা তার পরিবারের সদস্যদের কারও কাছ থেকে এমন কোনো উপহার গ্রহণ করবেন না অথবা করার অনুমতি দেবেন না, যা গ্রহণ করলে তিনি উপহারদাতার কাছে বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ হন। তবে ধর্মীয় বা সামাজিক প্রথা অনুসারে বিবাহ অনুষ্ঠান, বিবাহবার্ষিকী, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের রীতি অনুযায়ী উপহার গ্রহণ করা যাবে।

তাছাড়া ব্যক্তিগত বন্ধু বা নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে উপহার গ্রহণ করা যাবে। তবে তা অবশ্যই ৫০ হাজার টাকার মধ্যে হতে হবে। এর বেশি হলে তা সরকারকে জানাতে হবে।

কোন সরকারি কর্মচারি যৌতুক দিতে বা নিতে বা যৌতুক দেওয়ার বা নেওয়ার প্ররোচিত করতে পারবেন না। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কণ্যা বা বরের পিতা মাতা বা অভিবাবাকের কাছে যৌতুক দাবি করতে পারবে না।

কোন সরকারি কর্মচারি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ছাড়া কোনো বিদেশী পুরস্কার গ্রহণ করতে পারবেন না। তবে অনুমোদন গ্রহণ সময় সাপেক্ষ হলে পুরস্কার গ্রহণের পর তা গ্রহণ করতে হবে।

কোন সরকারি কর্মচারি তার সম্মানে কেবল তাকেই প্রশংসা করার উদেদেশ্যে কোন বক্তৃতা অথবা তার সম্মানে কোন আপ্যায়ন অনুষ্ঠানে উৎসাহ প্রদান করতে পারবেন না। তবে চাকরি থেকে অবসর, বদলী, কিংবা কর্মস্থল ত্যাগের আগে অনানুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন।

কোন সরকারি কর্মচারি তার অধিক্ষেত্রে দাপ্তরিক কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিকে কোন অর্থ ধার দিতে কিংবা কারো কাছে ধার নিতে পারবেন না। অর্থাৎ তিনি নিজেকে কারো কাছে আর্থিকভাবে দায়াবদ্ধ করতে পারবেন না। তবে যৌথ মূলধনী কারবার, ব্যাংক অথবা সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবেন।

কোন সরকারি কর্মচারি কোথাও স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করবেন তা সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া নিবন্ধিত সমবায় সমিতি থেকে একজন সরকারি কর্মচারি ঋণগ্রহণ কিংবা প্রদান করতে পারবেন। কোন সরকারি পরস্পরের মধ্যে লেনদেন থাকলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

কোন সরকারি কর্মচারি সরকারে অনুমোদন নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকার স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন। তবে অনুমতি অবশ্যই নিতে হবে।

প্রত্যেক কর্মচারি প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ডিসেম্বর মাসে পাঁচ বছরে সম্পদের হ্রাস বৃদ্ধি উল্লেখ করে হিসেবে বিবরণী অথবা আয়কর সনদ সরকারের কাছে দাখিল করতে হবে। প্রত্যেক সরকারি কর্মচারি তার নগদ টাকায় সহজে পরিবর্তণীয় সম্পদের হিসেবে প্রকাশ করবেন।

কোন সরকারি কর্মচারি সরকারের পূর্বানুমতি ব্যাতিরেকে কোন পাবলিক কমিটিতে সাক্ষ প্রদান করতে পারবেন না। সরকারি কোন নীতি বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে পারবেন না। কোন সরকারি কর্মচারি জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। কোন সরকারি কর্মচারি ধর্মীয় মতবাদ প্রচার বা ধর্মীয় মতবাদ সম্পর্কিত কোন ধরণের দল উপদলে যোগদান করতে পারবে না।

ধর্মীয় যে সব ক্ষেত্রে জনঅসন্তোষ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে তা এড়িয়ে চলবেন। কোন সরকারি কর্মচারি সংকীর্ণতা, প্রিয়তোষণ, আইনীভাবে ক্ষতিগ্রস্তকরণ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না। নারী সহকর্মীদের প্রতি কোন ধরণের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করা যাবে না। এমন কোন আচরণ করা যাবে না যাতে নারী সহকর্মীর প্রতি অসম্মান হয়।

এতে আরো বলা হয়েছে, এই বিধিমালার যে কোন বিধি লংঘন সরকারি কর্মচারি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর আওতায় অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

PDF ফাইল ডাউনলোড করতে নিচের ছবিতে ক্লিক করুন

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *