ব্রেকিং নিউজঃ ৪০তম বিসিএস আবেদনে হেল্পলাইন চালু

৪০তম বিসিএস পরীক্ষার অনলাইন আবেদনপত্র পূরণে কারিগরি বিষয়ে সহায়তা বা পরামর্শের জন্য হেল্পলাইন চালু করেছে বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন (পিএসসি)। বৃহস্পতিবার পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ.ই.ম. নেছার উদ্দীন সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

০১৫৫৫-৫৫৫১৪৯, ০১৫৫৫-৫৫৫১৫০, ০১৫৫৫-৫৫৫১৫১ এবং ০১৫৫৫-৫৫৫১৫২ নম্বরে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ফোন করে আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তা নেওয়া যাবে।

আগামী ১৫ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই হেল্পলাইন চালু থাকবে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হয়ে চাকরিপ্রার্থীরা আগামী ১৫ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।

এদিকে কোটা নিয়ে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ৪০তম বিসিএস থেকে কার্যকর করা হবে। তবে ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষায় আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক।

বৃহস্পতিবার পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘কোটার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছি।

সেখানে বলা হয়েছে যে, ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় কোটা বিষয়ে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হবে। সরকার যদি কোটা বাতিল করে তবে সেটি কার্যকর করা হবে। সে ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে ৩৮ ও ৩৯তম বিসিএসের ক্ষেত্রে আগের মতোই কোটা বহাল থাকছে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু ৩৮তম বিসিএস ও স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আগেই প্রকাশ করা হয়েছে। এ দুই বিসিএসের পরীক্ষা চলমান রয়েছে, তাই আগের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।’

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ৪০তম বিসিএসের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪০তম বিসিএসে মোট এক হাজার ৯০৩ ক্যাডার নিয়োগের সুপারিশ করবে পিএসসি। এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বিষয়ে সরকারের সর্বশেষ গ্রহণ করা সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

জানা গেছে, ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে ২০০, পুলিশে ৭২, পররাষ্ট্রে ২৫, কর ২৪, শুল্ক আবগারিতে ৩২ ও শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ৮০০ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এদিকে বৃহস্পতিবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে প্রবেশে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, সরকার সব সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৭-০৩-১৯৯৭ তারিখের সময় (বিধি-১)এস-৮/৯৫(অংশ-২)-৫৬(৫০০) নং স্মারকে উল্লিখিত কোটা পদ্ধতি নিম্নরূপভাবে সংশোধন করিল:

ক) ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হইবে; এবং

খ) ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হইল।

২। ইহা অবিলম্বে কার্যকর করা হইবে।

এই আদেশ ‘অবিলম্বে কার্যকর হইবে’ বলেও উল্লেখ করা হয় পরিপত্রে।

কোটা বাতিলের প্রতিবাদে শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আন্দোলনের মধ্যেই এই পরিপত্র জারি করা হলো। আন্দোলনকারীরা বলছে, সরকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসা পর্যন্ত তারা শাহবাগে অবস্থান করবে। আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোটা চাইলে আন্দোলন করেই আসতে হবে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকারি চাকরিতে নবম থেকে ত্রয়োদশতম গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ কোটা তুলে দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কোটা পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশির ভিত্তিতে বুধবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোটা থাকবে না।

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। প্রাথমিকভাবে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও পরবর্তীতে আরও ৯০ কার্যদিবস সময় পায় কমিটি।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর কোটা সংস্কার বা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোটা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন।

কমিটির প্রতিবেদন বুধবারের মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোনো কোটা পদ্ধতি থাকবে না। সরাসরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে।

তবে সময়ের প্রেক্ষাপটে কোনো অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটার প্রয়োজন দেখা দিলে বা কোটার অপরিহার্যতা দেখা দিলে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি আরও বলেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে যে ব্যবস্থা আছে তা বহাল আছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা দীর্ঘ দিনের। ১৯৭২ সালের ৫ নভেম্বর এক নির্বাহী আদেশে সরকারি, আধাসরকারি, প্রতিরক্ষা এবং জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানে জেলা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মহিলাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়।

পরে বিভিন্ন সময়ে এই কোটা পদ্ধতির সংস্কার, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করে সরকার।

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি ৩০ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, পশ্চাদপদ জেলাগুলোর জন্য ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ মিলিয়ে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা পদ্ধতি চালু ছিল।

 

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *