৪০তম বিসিএসের অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণের A to Z জেনে নিন

কোন কলাম কিভাবে পূরণ করলে আবার ভুল হয়ে যায়!- বিসিএসের আবেদন ফর্ম পূরণের সময় অনেকের মধ্যেই এই শঙ্কা কাজ করতে দেখা যায়। শঙ্কা নিরসনের পাশাপাশি এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারনা দেওয়ার লক্ষ্যে বিসিএসের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটি ধারাবিবরণী উপস্থাপন করছি আজ। আশা করি, নির্ভুলভাবে ফর্ম পূরণে আপনার সকল প্রশ্নের জবাব এখানে খুঁজে পাবেন।

BPSC ওয়েবসাইটে ঢুকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সেকশনে ‘বিসিএস পরীক্ষা’ লিঙ্ক এবং এরপর ‘Online application for 40th BCS’ লিঙ্কে ক্লিক করে আপনি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করবেন। প্রথমেই আপনার কাছে একটি চয়েস লিস্ট দেওয়া হবে-
* Application form for general cadre
* Application form for technical /professional
*Application form for both cadre

এখন,
> যারা শুধু সাধারণ ক্যাডারে ( বিজ্ঞপ্তিতে দেখুন, কোনগুলো সাধারণ ক্যাডার, যেমন -এডমিন, পুলিশ,পররাষ্ট্র ইত্যাদি) আবেদন করবেন, তারা প্রথম অপশনে ক্লিক করবেন
>যারা শুধু শিক্ষা / স্বাস্থ্য (ডাক্তার প্রার্থী)/ প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ার প্রার্থী)/ কৃষি; এই একটি ক্যাডারই চয়েস দিতে চান, তারা দ্বিতীয় অপশনে ক্লিক করবেন
>যারা এক বা একাধিক সাধারণ ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষা (বা স্বাস্থ্য, প্রকৌ…..) ক্যাডারও চয়েস দেওয়ার চিন্তা করছেন, তারা তৃতীয় অপশনে ক্লিক করবেন।

part-1
ক্লিক করার পর যে ফর্মটি আসবে, সেটি ধীরেসুস্থে পূরণ করুন।
১. নিজের নাম,পিতামাতার নামের বানান অবশ্যই এসএসসির সার্টিফিকেট অনুযায়ী শুদ্ধ বানানে লিখবেন।
২.Employment status: যারা জব করেন না- তারা unemployed, যারা সরকারি চাকুরীতে আছেন- তারা Regular basis under revenue budget, যারা কোন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে (যেমন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) চাকুরী করেন- তারা Autonomous, যারা বেসরকারি চাকুরী করেন- তারা private organisation এ ক্লিক করবেন
৩. যারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (চাকমা, মারমা) তারা Ethnic Minority তে yes, অন্যান্যরা no তে ক্লিক করবেন।
৪. যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন করবেন, তারা সন্তান, বা নাতিতে, আর যারা সাধারণ প্রার্থী তারা Non freedom fighter এ ক্লিক করুন।

৫. বিবাহিত হলে married, অবিবাহিত হলে single, ( যারা ডিভোর্সড তারাও married এ ক্লিক করুন।)
6. ন্যাশনাল আইডি থাকলে yes এ ক্লিক করে শুদ্ধভাবে নম্বরটি লিখুন, আর না থাকলে no তে কিক করুন।
৭. Disability: যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তারা visually তে, যারা অন্য কোন শারীরিক প্রতিবন্ধী তারা physically তে, আর যারা সুস্থ, স্বাভাবিক তারা none এ ক্লিক করুন
৮. Height /weight সঠিক তথ্য দিয়ে পূরন করবেন
৯. বর্তমানে যেখানে থাকেন, সেটা present address, আর স্থায়ী ঠিকানা ( সম্ভব হলে যেখানে আপনার বাবা/মায়ের নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমি আছে) সেটা পার্মানেন্ট এড্রেস লিখুন
১০. Exam centre: যে শহরের কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চান, সেই শহরের উপর ক্লিক করুন। জেনে রাখুন, স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার সাথে exam centre এর কোন সম্পর্ক নেই। আপনার স্থায়ী ঠিকানা রাজশাহী, বর্তমান ঠিকানা ঢাকা হলেও আপনি চাইলে exam centre বরিশাল দিতে পারেন। আর এই এক্সাম সেন্টারের প্রযোজ্যতা শুধু প্রিলি এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য। ভাইভা সবসময় ঢাকার পিএসসির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

১১.যারা ইংরেজিতে প্রিলি দিতে চান, তারা নীল রঙের মধ্যে লেখাটির ( question version) ডান পাশের বক্সে ক্লিক করবেন। আর যারা বাংলায় দিবেন, তারা এখানে ক্লিক করার দরকার নেই। ( আশা করি, আপনারা বাংলায়ই দিবেন, তাই এখানে টিক দেওয়া হতে বিরত থাকুন)
১২ এবার উপরের সব লেখা এবং ক্লিকগুলো ঠিক আছে কিনা, ভালমতো রিচেক করুন। যদি ঠিক থাকে, তাহলে the above info… এর বাম পাশের বক্সে ক্লিক করে next এ ক্লিক করুন।

part-2
১. এসএসসি/এইচএসসি/গ্রাজুয়েশন/ মাস্টার্স এর প্রতিটি কলাম যথাযথভাবে পূরণ করবেন। মাস্টার্স করে থাকলে masters এর পাশের সাদা ঘরে ক্লিক করে তথ্য পূরণ করবেন, মাস্টার্স না করে থাকলে ক্লিক করবেন না, খালি রেখে দিন।
২. অন্য কোন ডিগ্রি ( এমফিল, পিএইচডি) নিয়ে থাকলে Additional Qua… এর ডান পাশের সাদা ঘরে ক্লিক করে যথাযথভাবে পূরণ করুন। আর এমন কোন অতিরিক্ত ডিগ্রি না থাকলে ক্লিক করবেন না, স্কিপ করুন।
৩. Post related subject… এ আপনি যে বিষয়ে অনার্স করেছেন, সে বিষয়ের উপর ক্লিক করুন।
৪. উপরের সব তথ্য আবার রিচেক করে the above… এর বাম পাশের ঘরে ক্লিক করে next এ ক্লিক করুন।

part-3
১. cadre এ আপনার পছন্দের ক্যাডারসমূহ একের পর এক ক্লিক করে চয়েস দিন।
২. applicants cadre choice এ make your.. এ ক্লিক করুন।
৩. selected cadre…. এর বাম পাশের ঘরে ক্লিক করে next এ ক্লিক করুন
এ পর্যায়ে আপনি আপনার পুরো আবেদনের সব তথ্যের একটি ওভারভিউ দেখতে পাবেন, যেখানে প্রতি পার্টের নিচে সাদা ঘরে এডিট অপশন থাকবে। যদি দেখেন কোথাও ভুল হয়েছে, আপনি এডিট অপশনে ক্লিক করে তা সংশোধন করে নিতে পারবেন।
যদি আর কোন ভুল না থাকে, তা হলে আপনি >validation code ( নীল অক্ষরের) গুলো ডান পাশের ঘরে লিখবেন
> upload photo এর পাশের choose file এ ক্লিক করে ৩০০*৩০০ pixel এর আপনার ছবি ( ফাইল সাইজ ১০০ kb এর বেশি হলে নিবে না) আপলোড করুন
> upload signature এর পাধের choose file এ ক্লিক করে ৩০০*৮০ pixel এর সিগনেচারের ছবি ( ফাইল সাইজ ৬০ kb এর নিচে হতে হবে) আপলোড করুন।
সবশেষে I declare.. এর বাম পাশের সাদা ঘরে ক্লিক করে নিচে submit the application এ ক্লিক করুন। ব্যস, এরপর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নিয়মে টাকা জমা এবং এডমিট কার্ড ডাউনলোড করলেই আপনার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ।

আবেদন ফর্ম পূরণ করার সময় মনে রাখবেনঃ

স্বাক্ষরঃ
এমন একটি স্বাক্ষর ঠিক করে নিন, যা ভবিষ্যতে আপনি সবসময় ব্যবহার করবেন। কারন এই এক বিসিএসেই কত ফর্মে কতবার যে আপনাকে স্বাক্ষর করতে হবে, তার ইয়ত্তা নেই। একেক সময় একেক রকম স্বাক্ষর যদি করেন, তা আপনার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতাই তৈরি করবে। সবচে ভাল হয়, যদি আপনি জাতীয় পরিচয় পত্রে যে স্বাক্ষর দিয়েছেন, সেটিই এখানেও ব্যবহার করেন।

স্থায়ী ঠিকানাঃ
যদি আপনি স্থায়ী ঠিকানা ভুলক্রমে অন্য জেলা দিয়ে ফেলেন, সেক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় আপনি বাদ পড়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ ক্যাডার পেয়েও তা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। সাবধানে পূরন করুন।

ক্যাডার চয়েসঃ
কি কি ক্যাডার কিভাবে চয়েস দিবেন, অবশ্যই অবশ্যই অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত কারো সহায়তা নিয়ে আগেই ঠিক করে রাখুন। প্রয়োজনে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে ক্রস চেক করে নিতে পারেন। যাদের তেমন পরিচিত কেউ নেই, এই অধমকে দয়া করে নক দিয়েন। ইনশাআল্লাহ, হতাশ করব না।

শুরু হোক তবে বিজয়ের পদযাত্রা। শুভকামনা নিরন্তর।

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *